ঘরটা বড়োজোর দশ ফুট বাই দশ ফুট

ঘরটা বড়োজোর দশ ফুট বাই দশ ফুট। সামনে একটু বারান্দা। ওই এক ঘরেই থাকা, খাওয়া, রান্না। একটা পুরানো নড়বড়ে তক্তোপোষ, তার উপরে বুড়ি কাঁথা জড়িয়ে অন্য পাশ ফিরে শুয়ে আছে। রেল লাইনের দিকে দরমার বেড়া কেটে একটা জানালা করা হয়েছে। সেখানে পুরানো একটা কাপড় কেটে পর্দার মতো করে টাঙানো। তার ফাক দিয়ে অল্প আলো এসে পড়েছে ঘরে। করুন, ক্লিষ্ট মুখ আবছা আলো-অন্ধকারে ম্লান।

তক্তোপোষের নীচে রান্নার সরঞ্জাম। হাড়ি, কড়াই, বাসন-পত্র। বাইরের এক চিলতে বারান্দার এক কোনে একটা বালতিতে জল। একটা পুরানো পিড়ি। ঘরের মধ্যে একটা অসুখ-অসুখ গন্ধ।

ঘরের বাইরেটাও অপরিস্কার। এখন বর্ষাকাল নয় বলে রক্ষা। তা না হলে এই গলিতে কাঁদা মাড়িয়েই ঢুকতে হতো। প্রায় গায়ে গায়ে ঘর, দু’একটা ঘরের পাশে সরু গলি। ঘরের পেছনের দিকে রেল লাইন বরাবর অনেকেই নানা রকমের গাছ লাগিয়েছে। পেঁপে গাছ, লংকা গাছ, কাচু গাছ। কোন কোন ঘরের ছাউনির উপরে লক লক করে বেড়ে উঠছে লাউ গাছ, সিম গাছ, পুঁইশাক। কোন কোন ঘরের সামনে তুলসী গাছও আছে।

আমাকে ঘর দেখিয়ে দেওয়া বৌ টি নির্বিকার ভাবে বসে থাকলো, কিন্তু আমাকে দেখে এগিয়ে এলো কিছু বাচ্চা-কাচ্চা।  এই বস্তিতে আমার মতো স্যুট-ব্যুট পরা বাবু লোক আসেনা।  চার-পাঁচটি আধা ন্যাংটো, খালি গা, খালি পায়ের ছেলে-মেয়ে আমাকে একটু দূর থেকে দেখতে লাগলো। তাদের জটল এবং আমাকে দেখে এগিয়ে এলো আরেকটি বছর দশেকের মেয়ে। আমি বারান্দার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, ঢুকতে গেলে মাথা নীচু করে ঢুকতে হবে। মেয়েটি বুঝতে পেরে কাছে এসে বুড়িকে ডাক দিল, ‘ঠাম্মো, ও ঠাম্মো…, দেহ কিডা আইছে… ও ঠাম্মো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

আস্তে আস্তে জানলাম অনেক কথা

Sun Nov 29 , 2020
আস্তে আস্তে জানলাম অনেক কথা। তাদের আসল বাড়ি ছিল বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার এক গ্রামে। অভাব ছিলনা, ছিল গোলা ভরা ধান, গোয়ালে গরু, পুকুরে মাছ। তারার মায়ের কোলে একদিন সত্যিই তারার মতো একটি মেয়ে এসেছিল। তার জন্মের রাতে আকাশে অনেক তারা ফুটেছিল। তার বাবা তাই নাম রেখেছিল তারা। তারা যখন সবে […]